সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম ইল্‌ম্‌ সর্বপ্রকার সীমার উর্ধ্বে October ২৪th, ২০১১ by মাদানী ফোয়ারা “আমি তোমাদেরকে সামান্যতম ইলম দান করেছি। (সূরা বণী ঈসরাইল- ৮৫) খালিক মালিক মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামীন হচ্ছেন ‘আলিমুল গইব’ অর্থাৎ সর্ব প্রকার গইব বা অদৃশ্য বস্তু বা বিষয়ের ইল্‌ম আল্লাহ পাক উনার রয়েছে। আল্লাহপাক বিনা মধ্যস্থতায় বাকারো মাধ্যম ছাড়াই সকল ইলমের বা ইলমে গইবের অধিকারী। আর এরূপ ইল্‌মে গইব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “আসমান-যমীনে আল্লাহ পাক ব্যতীতকারো ইল্‌মে গইব নেই।”(সূরা নমল-৫৫) অর্থাৎ বিনা মধ্যস্থতায় বা কারো মাধ্যম ব্যতীত যে ইল্‌মেগইব তা শুধুমাত্র আল্লাহপাক উনারই রয়েছে। প্রথমোক্ত আয়াত শরীফে ইলমের স্বল্পতা মহান আল্লাহ পাক উনার সাধারণ বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ বা খাছ বান্দাগণ তথা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্‌ সালামগণ এবং হাক্বীক্বী নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া তথা খাছ খাছ ওলী আল্লাহগণ এ হুকুমের বাইরে। অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ইত্যাদি যাই হোক না কেন তার জ্ঞান সামান্য থেকে সামান্যতম। পক্ষান্তরে যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে হাক্বীক্বীভাবে গুণান্বিত তথা নবী রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ, বিশেষ করে সকল নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ হাবীব বা বন্ধু হওয়ার কারণে স্বয়ং আল্লাহ পাকই উনাকে সমস্ত প্রকারইলম দান করেছেন। আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে এমন কোন বিষয় ছিল না যা উনি জানতেন না বা জানেন না। অর্থাৎ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন “মুত্তালা আলাল গইব” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীবকে সর্ব প্রকার ইল্‌মে গইব দান করেছেন। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “দয়াময় আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাকে কুরআন শরীফ শিক্ষা দিয়েছেন, উনি ইনসান সৃষ্টি করেছেন এবং উনাকেবয়ান শিক্ষা দিয়েছেন।” (সূরা আর রহমান ১-৪) এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে খাযিনে’ উল্লেখ আছে, “বলাহয়েছে যে, ইনসান দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর বয়ান দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে, পূর্বাপর সমস্ত কিছুর ইল্‌ম আল্লাহ পাক উনাকে দান করেছেন। কেননাউনাকে পূর্ববর্তী পরবর্তী এবং পরকাল সম্পর্কে সকল গাইবী বিষয়ের ইল্‌ম দান করেছেন।” অনুরূপ তাফসীরে মায়ালিমুত তানযীল, হুসাইনী, ছাবীতেও উল্লেখ আছে। হাদীছ শরীফের বিখ্যাত ও মশহুর কিতাব ‘মিশকাত শরীফে’ উল্লেখ আছে, “হযরতআব্দুর রহমান বিন আইশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালাআনহু হতে বর্ণিত। উনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি আমার রবকে উত্তম ছূরত মুবারকে দেখেছি। আমার রববললেন, (হে আমার হাবীব!) মুকার্‌রব ফেরেশ্‌তাগণ কোন বিষয়ে আলোচনা করছে?আমি বললাম, আপনিই অধিক জানেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের হাত আমার দু’কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন। আমি আল্লাহ পাক উনার ফয়েজের শীতলতা আমার মধ্যে অনুভব করলাম।অতঃপর আসমান-যমীনের সকল বিষয় ও বস্তুর ইলম আমার অর্জিত হয়ে গেল।” এ হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মিরকাত শরীফে’ লিখেন, “আল্লামা ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “সামাওয়াত” দ্বারা আসমানসমূহ এমনকি তারও উপরের সমস্ত সৃষ্টির ইলমকে বুঝানো হয়েছে। যেমন মি’রাজ শরীফের ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়। আর ‘আলআরদ’ জিন্‌স (জাতি) অর্থেব্যবহৃত হয়েছে, ঐ সমূদয় বস্তু যা সমস্ত যমীনের মধ্যে বরং তারও নিচে রয়েছে তার সব বিষয়েরই ইলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্জিত হয়ে যায়। (শুধু তাই নয় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন) আমার জন্যে মহান আল্লাহ পাক গইব-এর সকল দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন।”